বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন : ২০ বছরে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়েছে ২০ হাজার ১৯২ কোটি টাকা

  

পিএনএস ডেস্ক: বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে ২০ বছরে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়েছে ২০ হাজার ১৯২ কোটি ২৫ লাখ টাকা (২৪০.৩৮৪ কোটি ডলার)। ১৯৯৮ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ২০ বছরের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৩.৪৭ ট্রিলিয়ন ডলারের (৩৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার) সম পরিমাণ সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম (১৯৯৮ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত যে তালিকা তৈরি হয়েছে সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ)। আমাদের পাশের দেশ মিয়ানমার জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকির তালিকায় তৃতীয় অবস্থানের দেশ। জার্মানভিত্তিক জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিরূপণ সংস্থা জার্মান ওয়াচ ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০১৯’-এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ২০১৭ সালভিত্তিক ঝুঁকির তালিকায় বাংলাদেশকে তুলে ধরেছে নবম স্থানে।

ঝুঁকির তালিকায় এককভাবে বাংলাদেশ নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট না থাকলেও একত্রে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালকে নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। কেবল ২০১৭ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে অতি বর্ষণের কারণে চার কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েক লাখ মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে আড়াই শ’ লোক মারা গেছে ভবন ধসে এবং পানিতে ডুবে। বন্যায় এই তিন দেশের ৯ লাখ ৫০ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।

১৯৯৮ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত শীর্ষ ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি দেশ হলো যথাক্রমে পোর্টেরিকো, হন্ডুরাস, মিয়ানমার, হাইতি, ফিলিপিন্স, নিকারাগুয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র।

তালিকায় দেখা যায়, মিয়ানমার তালিকার তিন নম্বরে থাকলেও দেশটিতে বাংলাদেশের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ কম। ১৯৯৮ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত বাংলাদেশে ক্ষতির পরিমাণ ২৪০.৩৮৪ কোটি ডলার হলেও মিয়ানমারে ক্ষতি হয়েছে ১২৭.৫৯৬ কোটি ডলার। পাকিস্তান তালিকার ৮ নম্বরে থাকলেও ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। পাকিস্তানে ক্ষতির পরিমাণ ৩৮২.৬০৩ কোটি ডলার।

পোর্টেরিকো, শ্রীলঙ্কা এবং ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র ২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৯৯৮ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত হন্ডুরাস ও মিয়ানমার চরম আবহাওয়ার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তিন দেশের তালিকায় ছিল পোর্টেরিকো, হন্ডুরাস ও মিয়ানমার। সারা বিশ্বে এ সময়ের মধ্যে চরম আবহাওয়ার কারণে পাঁচ লাখ ২৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে ক্ষতি হয়েছে ৩.৪৭ ট্রিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ। এ সময়ের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১১ হাজার ৫০০ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় থেকেই ক্ষতিটা বেশি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের সাথে অতিরিক্ত বৃষ্টি, বন্যা এবং ভূমিধসের কারণেই ক্ষতিটা বেশি হয়েছে ২০১৭ সালে। ২০১৭ সালে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে চারটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ে। সাম্প্রতিক বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ২০১৭ সালে রেকর্ড বৃষ্টি ও হারিকেনের সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে।

১৯৯৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ১০ দেশের মধ্যে আটটি উন্নয়নশীল, নিম্ন আয়ের এবং নিম্নমধ্য আয়ের দেশ। এর মধ্যে ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র উচ্চমধ্য আয়ের দেশ এবং পোর্টেরিকো কেবল উচ্চ আয়ের দেশ।

যদি তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় তাহলে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা কমে যাবে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। আইপিসিসির বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রা বৃদ্ধির কারণ সাগরের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া। বেশি তাপমাত্রা ঘূর্ণিঝড়কে আরো শক্তিশালী করে থাকে এবং অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে। উষ্ণ বায়ু বেশি করে আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে এবং বেশি করে বৃষ্টি বর্ষণ করে থাকে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে বেশি বেড়ে গেলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের পরিমাণও বেড়ে যাবে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা সম্ভব হবে যদি জরুরি ভিত্তিতে এর করণীয় ঠিক করা হয়।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech