বিআইডব্লিউটিএ’র সুরতহাল : মধু খেকো প্রকল্প পরিচালক!

  


পিএনএস (মো: শাহাবুদ্দিন শিকদার) : তিনি বিআইডব্লিউটিএ’র বড় বড় প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক। সংস্থার বড় প্রকল্প আসলেই তিনি তদ্বির করে তার প্রকল্প পরিচালক হন। টেন্ডারবাজি করে ঠিকাদারদের ফাঁদে ফেলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। টাকার লেনদেন এবং দর কষাকষির জন্য ব্যবহার করেন ছাত্রলীগের একজন সাবেক নেতাকে। টাকার বড় অংশ জমাও রেখেছেন ঐ ছাত্র নেতার কাছে। ঐ ছাত্রনেতাকে বিআইডব্লিউটিএ সংশ্লিষ্ট সবাই চিনেন। তাঁর কতো টাকা আছে? কি পরিমাণ সম্পত্তি আছে? কি পরিমাণ সোনাদানা আছে তা নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই জীবন্ত কিংবদন্তী। বড় বড় প্রকল্প থেকে মধু খাওয়া শেষ হলেই তিনি সেই প্রকল্প ছেড়ে দেন। তার অধীনস্থ এক প্রকৌশলীর ঘাড়ে মধু শেষ হওয়া প্রকল্প চাপিয়ে দিয়ে তিনি নতুন বড় প্রকল্পের পিডি হন। নতুন প্রকল্পের রূপ-রস-মধু আস্বাদন শেষ হলেই আবার সেই প্রকল্পও তিনি ছেড়ে দেন। তখন অধীনস্থ প্রকৌশলীদের ঘাড়ে পুরাতন প্রকল্প চাপিয়ে দেন। এভাবেই তার পেশাগত জীবনে বারবার বসন্ত আসে। অপরদিকে তাঁর অধীনস্থ কয়েকজন প্রকৌশলী ব্যস্ত থাকেন তার রেখে যাওয়া ভেজাল এবং ময়লা পরিষ্কারের কাজে। এই অধীনস্থ প্রকৌশলীরা প্রায়ই বলে বেড়ান, ‘আমরা মধু খাওয়া’ প্রকল্প পরিচালকের মৃত প্রকল্পের লাশ দাফনের কাজে নিয়োজিত।

বিআইডব্লিউটিএ’র ঐ সমালোচিত প্রকল্প পরিচালক এক যুগেরও বেশী সময় একই চেয়ার আটকে রেখেছেন। এতে তার অধীনস্থ প্রকৌশলীদের পদোন্নতি আটকে আছে। কয়েক বার সমালোচিত প্রকল্প পরিচালকের পদোন্নতির সুযোগ আসলেও তিনি পদোন্নতি ঠেকাতে ব্যাপক তদ্বির চালিয়েছেন। মানুষ পদোন্নতির চেষ্টা চালায় আর এই প্রকৌশলী পদোন্নতি ঠেকানোর চেষ্টা চালায়।

সূত্রমতে, এই চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীর আচার-আচরণ অত্যন্ত খিটখিটে। তিনি তাঁর অধীনস্থ প্রকৌশলীদের সাথে প্রায়ই দুর্ব্যবহার করে থাকেন। মাঝে মাঝে তার পরিবারের সদস্যরাও বিআইডব্লিউটিএ’র সিদ্ধান্তে ব্যাপক হস্তক্ষেপ করে থাকে।

ভূক্তভোগীমহল এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ যাচাই স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। (চলবে)

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন