শিমুলিয়া কাওড়াকান্দি ফেরী রুটঃ নাব্য সংকট নদীতে হয় না- সংকট হতে পারে কৃত্রিম চ্যানেলে

  

পিএনএস (মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার) : এই ভরা বর্ষায় পদ্মা নদীর শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ফেরী রুটে নাকি নাব্যতার সংকট দেখা দিয়েছে? পত্রিকায় ও বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত এই খবরটি পড়ে অনেকে মুখ টিপে হাসতেই পারেন। প্রশ্ন করতে পারেন- পদ্মায় কি আসলেই নাব্যতার সংকট চলছে? বাস্তবে পদ্মার মূল প্রবাহে এখন ৭০-৮০ ফুট পানি রয়েছে। সমস্যা দেখা দেয়, চর কেটে কৃত্রিমভাবে তৈরী করা চ্যানেলে বর্তমানে যেখানে কমপক্ষে ১২ ফুট পানি রয়েছে। বিআইডব্লিউটিসির ফেরী চলাচলে পানির গভীরতা প্রয়োজন মাত্র ৯ ফুট।

সূত্র মতে, পদ্মার বুকে জেগে উঠা বিশাল চর কেটে কৃত্রিম চ্যানেল তৈরী করে ফেরী রুটের দূরত্ব কমানো হয়। পদ্মার বুকে বাইপাস সার্জারী করে এই চ্যানেল টিকিয়ে রাখতে হয়। মূলতঃ ড্রেজিং করতে হয় এই কৃত্রিম চ্যানেলেই। কিন্তু বর্ষা এলে এই কৃত্রিম চ্যানেলে প্রাকৃতিক ভাবেই বিপুল পরিমান পলি পতিত হয় যা অপসারণ করতে অব্যাহত ভাবে ড্রেজিং চালিয়ে রাখতে হয়। এভাবেই প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে টিকিয়ে রাখতে হয় শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরী রুট। কিন্তু কখনো কখনো প্রকৃতি যখন ভীষণ বৈরী আচরণ করে তখন বৃদ্ধি পায় পানির স্রোতে। এই স্রোতের তোড়ে উজানের স্যান্ডবার স্থান পরিবর্তন করে অনেক সময় কৃত্রিম চ্যানেলের মুখে চলে আসে যা প্রচন্ড নাব্যতার সংকট সৃষ্টি করতেই পারে। যে সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবেলার কোন সুযোগ অনেক সময় থাকে না। সম্ভাব্য এ রকম পরিস্থিতি মোকাবেলার লক্ষ্যেই বাইপাস সার্জারীর মাধ্যমে বিকল্প ফেরী রুট সৃষ্টি করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা সেতুর কাজ চলমান থাকায় শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ফেরী রুটে পলি পতনের হার গত ৩/৪ বছরে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংগতঃকারণে বর্তমানে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ফেরী রুটে বিআইডব্লিউটিএ’র ৬/৭ টি ড্রেজার দিন-রাত ড্রেজিং চালিয়ে নৌপথটিকে সচল রেখেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে এই ড্রেজারগুলো সেখানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র আরো জানায়, বিআইডব্লিউটিসির ডাম্প ফেরীগুলো তীব্র স্রোতে কোনো ভাবেই চলতে পারে না। শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি রুটে এই রকম ডাম্প ফেরীর সংখ্যা ৬টি। এই আধুনিক যুগে এই রকম সংকটপূর্ণ রুটে এ ধরণের ডাম্প ফেরী চলাচল নিয়ে অনেক আগেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাছাড়া, অন্যান্য ফেরীও তীব্র স্রোতে চলতে সমস্যা হয়। আর এ কারণেও অনেক সময় ফেরী চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হতেই পারে।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুট রক্ষণাবেক্ষণে অব্যাহত ড্রেজিং এর কোন বিকল্প নেই। তবে সংশ্লিষ্ট সকলকে এই সময়ে সার্বক্ষণিকভাবে সর্তক থাকতেই হবে।

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech