কোটেশন বাণিজ্যের মূল হোতা এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ নির্বাহী প্রকৌশলী-

  


পিএনএস (মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার) : গণপূর্ত অধিদপ্তরের কোটেশন বাণিজ্যের সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে এক শ্রেণীর চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ নির্বাহী প্রকৌশলী। বহুদিনের ঐতিহ্য ভঙ্গ করে হঠাৎ করে নির্বাহী প্রকৌশলীদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। রহস্যময় কারণে নির্বাহী প্রকৌশলীদের কোটেশনের মাধ্যমে কাজের ক্ষমতা ৩ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। যদিও আগে তাদের ক্ষমতা হাজারের কোটায় সীমিত ছিল। তিন লাখ টাকায় কোটেশনের ক্ষমতা উন্নীত হওয়ায় নির্বাহী প্রকৌশলীরা আরো বেশী স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠবে। বড় বড় কাজকে টুকুরো টুকরো করে নির্বাহী প্রকৌশলীরা তিন লাখ টাকার এস্টিমেট করে কোটেশনের মাধ্যমে কাজ করবে। ফলে মেরামত কাজে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং অতিরিক্ত প্রকৌশলীদের মনিটরিং থাকবে না। কাজের এস্টিমেট পাশ, বিল প্রদান প্রভৃতি নির্বাহী প্রকৌশলীদের হাতে ন্যাস্ত থাকায় স্বচ্ছতা হ্রাস পাবে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়তে পারে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কার্যাবলী সম্পর্কে অভিজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন ডিভিশনে বিগত অর্থ বছরে কি পরিমাণ কাজ কোটেশনের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছে এবং এই কাজগুলো বাস্তবে কতোটা হয়েছে তা যাচাই কল্পে অবিলম্বে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র অফিসারদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ে একটি মনিটরিং সেলও গঠন করা যেতে পারে।

এই প্রতিনিধির কাছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কমপক্ষে ১১টি ডিভিশনের কোটেশনের মাধ্যমে সম্পন্ন কাজের ঘাপলার তথ্য প্রমাণ রয়েছে। এই তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ‘কাজীর গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই’- প্রবচনের মতো খাতা-পত্রে কোটেশনের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের হিসাব-নিকাশ থাকলেও বাস্তবে মাঠ পর্যায়ে কোন কোন ক্ষেত্রে একেবারেই কাজ হয়নি। বাদবাকী ক্ষেত্রেও গড়ে শতকরা ৩০/৪০ ভাগ কাজ হয়েছে। বাকী টাকা লুটপাট হয়েছে।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাজের স্বচ্ছতার স্বার্থে এস্টিমেট বা কোটেশনের মাধ্যমে কাজ করার ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রকৌশলীদের ক্ষমতা পূর্বের মতো হাজারের কোটায় বলবৎ রেখে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মনিটরিং ক্ষমতা জোরদার করা যেতে পারে। এতে করে কাজের স্বচ্ছতার পাশাপাশি, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অফিসারদের মধ্যে চেইন অব কমান্ড বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে নির্বাহী প্রকৌশলীদের সাথে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর রহস্যজনক উষ্ণ সম্পর্ক বা দহরম-মহরম বিদ্যমান রয়েছে। আর সে কারণেই নির্বাহী প্রকৌশলীদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে পদস্থ কর্মকর্তাদের ঠুটো জগন্নাথে পরিণত করা হয়েছে। অনেক নির্বাহী প্রকৌশলীই আজকাল তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীদের পরোয়া না করে সরাসরি প্রধান প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকে যা নিয়ে নানা ধরণের গাল-গল্প চালু আছে।

অভিজ্ঞমহল এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গণপূর্তমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech