নবাবগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যু

  

পিএনএস ডেস্ক: ঢাকার নবাবগঞ্জে প্যারাগন হাসপাতাল এন্ড ট্রমা সেন্টার নামে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় নুরজাহান আক্তার (৩৪) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (০৩ জুন) স্বামী কর্তৃক ছুরিকাঘাতে আহত নুরজাহান আক্তারকে নবাবগঞ্জে প্যারাগন হাসপাতাল এন্ড ট্রমা সেন্টার নামে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে আসে তার স্বজনরা। মৃতের বোন সুমী আক্তারের দাবি করেন চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসাই তার বোনের মৃত্যু হয়েছে।

মৃতের স্বজনরা জানায়, গত সোমবার উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নে বিবির চর এলাকায় স্বামী আরফান আলীর নিজ বাড়িতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্ত্রী নুরজাহানের পেটে ছুড়িকাঘাত করে তার স্বামী আরফান। নুরজাহানের বাবার বাড়ির লোকজন সংবাদ পেয়ে তাকে শশুর বাড়ি থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

কিন্তু পরে তাকে উপজেলার বাগমারায় অবস্থিত প্যারাগন হাসপাতাল এন্ড ট্রমা সেন্টারের ম্যানেজার নাঈমের সাথে ১৮ হাজার টাকা চুক্তিতে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় নুরজাহানকে। ্ঐ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ কামরুজ্জামান কাঞ্চন নুরজাহানের অপারেশন করেন।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, কামরুজ্জামান কাঞ্চন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন মেডিকেল অফিসার। তার সার্জারি করার অনুমোদন না থাকলেও তিনি প্রতিনিয়ত প্যারাগন হাসপাতালে সার্জারি করে থাকেন।

নুরজাহানের অবস্থার অবনতি হলে বুধবার (০৫ জুন) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। স্বজনরা মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে ঢাকায় নিয়ে গেলে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেন, রোগীর সঠিকভাবে অপারেশন করা হয়নি। বৃহস্পতিবার (০৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে নুরজাহানের মৃত্যু হয়।

মৃতের বোন সুমী আক্তার বলেন, প্যারাগন হাসপাতালে আমার বোনের সঠিকভাবে চিকিৎসা না হওয়ায় কারনে তার নাড়ী পচে গিয়ে ছিল তাই তার মৃত্যু হয়েছে। থানায় মামলা করেছি। হাসপাতালের বিষয়টি প্রশাসন দেখবে আমরা নিরহ মানুষ কি করবো।

প্যারাগন হাসপাতাল এন্ড ট্রমা সেন্টারের উপ-মহাব্যাবস্থাপক সাখায়াত হোসেন বাপ্পি বলেন, নুরজাহানের অপারেশন আমাদের হাসপাতালে হয়েছে। রোগী পরে বাড়িতে চলে যায়। আমি আর কিছু জানি না।

নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মুন্সী আশিকুর রহমান নুরজাহানের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তা ডাঃ মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শুনেছি কারও অবহেলায় মানুষের মৃত্য এটা আমাদের কাম্য নয়। ভুল চিকিৎসা তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন