টুম্পাকে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

  

পিএনএস, কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় ও যৌতুকের দাবীতে স্বামী এবং তার পরিবারের লোকজনের হাতে নিহত অন্তঃস্বত্ত্বা নববধুু মোমেনা আক্তার টুম্পার (২৩) লাশ ময়নাতদন্তের পর আজ শনিবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে ঢালুয়া ইউনিয়নের উরকুটি গ্রামে পিত্রালয়ের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার ভাই নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে আজ শনিবার (২০ এপ্রিল) টুম্পার স্বামী দুলাল পালোয়ান, শ্বাশুড়ি শ্যামলা বেগম, ভাশুর নাছির উদ্দিন এবং ননদের স্বামী বাচ্চু মিয়াকে আসামী করে নাঙ্গলকোট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় টুম্পাকে যৌতুকের দাবি ও স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট শনিবার রাত ৯টায় লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

টুম্পার পরিবারের দাবী তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ বাথরুমে পেলে রাখা হয়েছে। তার স্বামী দুলালসহ পরিবারের সদস্যরা মোমেনা আক্তার টুম্পাকে শারীরিক নির্যাতন ও গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে লাশ বাথরুমে রেখে দেয়। তাদের দাবী, বাথরুমের কাপড়-চোপড় রাখার স্ট্যান্ডের সাথে কাপড়ের আঁচল গলায় পেছিয়ে মোমেনা আক্তারের আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।

হত্যাকারীরা তার হত্যাকান্ডটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য লাশের পাশে একটি প্লাস্টিকের মোড়া রেখে দেয়। মোড়ার উপর দাঁড়িয়ে আত্মহত্যা করলে মোড়াটি পাশে পড়ে যাবার কথা ছিল। অথচ প্লাষ্টিকের মোড়াটি তার স্থানে রয়েছে। এছাড়া বাথরুমের কাপড়-চোপড় রাখার স্ট্যান্ডটির সাথে মোমেনা আক্তারের উচ্চতাও কম। মোমেনা আক্তার আত্মহত্যা করলে বাথরুমের স্টান্ডটি তার শারীরিক ওজন বহন করার কথা ছিল না। বাথরুমের কমেটের মধ্যে হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় কিভাবে একজন ব্যক্তি আত্মহত্যা করেন বলে সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন রাখেন? বাদী নিজাম উদ্দিন আরো প্রশ্ন করে বলেন, মোমেনা আক্তার আত্মহত্যা করলে তার স্বামী দুলালসহ পরিবারের লোকজন পালিয়ে যাবে কেন ? অবশ্য নিজাম উদ্দিনের মতো এ প্রশ্নগুলো উপজেলার সকল সাধারণ মানুষের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে।

পরিবারের সদস্যদের আরো দাবী, মোমেনা আক্তারকে শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে হত্যা করা হয়। জুম্মার নামাযের সময় লোকজন নামাজে চলে যাওয়ায় কৌশলে তার লাশটিকে বাথরুমে রেখে স্বামী দুলালসহ পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম ও সাবেক ইউপি সদস্য বাদল বলেন, শুক্রবার দুপুরে টুম্পার স্বামী দুলালকে বাড়ি থেকে চোরের মত পালিয়ে যেতে দেখেচি। তবে কি কারনে সে পালাচ্ছিল তা জানতাম না। জানলে তাকে আটকানো যেত।

এদিকে, গৃহবধু মোমেনা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যদের মাঝে আহাজারি থামছে না। মোমেনা আক্তারকে হারিয়ে তারা প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। টুম্পাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনায় তার পরিবারের লোকজন সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসনের নিকট ঘাতকদের সুষ্ঠ বিচার দাবি করেছেন।

জানতে চাইলে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, নিহত মোমেনা আক্তার টুম্পার ভাই নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে চারজনকে আসামী করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এবং আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গত ৭মাস পূর্বে উপজেলার ঢালুয়া ইউপির উরকুটি গ্রামের আনোয়ার উল্লা মজুমদারের (হারুন) মেয়ে মোমেনা আক্তার টুম্পার সাথে পাশ্ববর্তী ব´গঞ্জ ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের পালোয়ান বাড়ীর আমিন মিয়ার ছেলে দুলাল পালোয়ানের বিয়ে হয়। বিয়ের একমাস পর টুম্পাকে শ্বশুরবাড়িতে তুলে নেয়ার কথা ছিল। কিন্ত যৌতুক হিসেবে মোটা অংকের আসবাবপত্র প্রদান নিয়ে টুম্পার পরিবারের সাথে তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দরাকষাকষি চলছিল। যার ফলে বিয়ের সাড়ে ছয়মাস পর গত ৪ এপ্রিল টুম্পাকে তার স্বামী দুলাল বৌভাতের অনুষ্ঠান করে বাড়ীতে তুলে নেয়। পরবর্তীতে ৭ এপ্রিল শেষবারের মতো টুম্পা একদিনের জন্য বাপের বাড়িতে বেড়াতে আসে। আবার ৮ এপ্রিল বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি চলে যায়। টুম্পা বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার সময় তার কিছু স্বর্ণালংকার বাপের বাড়িতে রেখে দেয় এবং যৌতুক বাবদ আসবাবপত্র না নেয়ায় টুম্পার উপর স্বামী দুলালসহ তার পরিবারের লোকজন ক্ষুদ্ধ ছিলেন। এ কারনে টুম্পার স্বামী দুলাল, শ্বাশুড়ি শ্যামলা বেগম, ননদ ফেরদাউস, ভুলু বেগম, ভুলুর স্বামী লিটন, দেবর হামিদ, জ্যা পলি ও ননদের স্বামী বাচ্চু মিয়া তাকে নির্যাতন করতেন।

এছাড়া টুম্পার স্বামী দুলাল পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন। এনিয়ে টুম্পা প্রতিবাদ করতো। এসব কারনে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে টুম্পার পরিবারের দাবী। এরপর গত শুক্রবার বিকেলে নববধু টুম্পার লাশ তার শ্বশুরবাড়ির বাথরুমের কমেটে হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

পিএনএস/মো: শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech