আসামি করে প্রতিদিন অফিস তবে পুলিশ পায় না খুঁজে!

  

পিএনএস ডেস্ক: চার মাসের সাজাপ্রাপ্ত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিভাগের অফিস সহকারী আফরিন জামান লিনাকে খুঁজে পাচ্ছে না দৌলতপুর থানা পুলিশ।

মুন্সীগঞ্জে একটি চেক ডিজঅনার মামলায় আসামি লিনাকে ৪ মাসের জেল ও ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। আদালতের রায়ের ৩ মাস অতিবাহিত হলেও তিনি নিয়মিত খুবিতে অফিস করছেন। অথচ থানা পুলিশ গ্রেফতার করতে পারছে না।

জানা যায়, সাজাপ্রাপ্ত আফরিন জামান লিনা খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বপাশা কুয়েট এলাকার কামরুজ্জামান কুদ্দুসের মেয়ে। খুবিতে চাকরিরত অবস্থায় লিনা বিদেশে পাঠানোর কথা বলে মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরের মাঠপাড়া এলাকার যুবক শিহাবুল হাসানের কাছ থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা নেন। পরে বিদেশ পাঠাতে ব্যর্থ হলে যুবককে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করেন। অগ্রণী ব্যাংকের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ওই চেকটি ডিজঅনার হয়। এতে যুবক শিহাবুল হাসান ২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আফরিন জামান লিনাকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন।

পরবর্তীতে মামলাটি মুন্সীগঞ্জের দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা আদালতে স্থানান্তর হয়। ওই আদালতের বিচারক শরীফুল আলম ভুঁঞা ২০১৮ সালের ১৭ মে আসামি লিনাকে ৪ মাসের জেল ও ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। মামলার রায়ের ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও খুবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিভাগের অফিস সহকারী সাজাপ্রাপ্ত লিনা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী শিহাবুল হাসান।

তিনি দাবি করেন- মামলার সাজাপ্রাপ্ত হয়েও লিনা দিব্যি কর্মস্থলে উপস্থিত হচ্ছেন নিয়মিতই। কিন্তু পুলিশ অদৃশ্য কারণে তাকে গ্রেফতার করছে না।

এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মোস্তাক আহমেদ বলেন, লিনার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে। উনার বাড়ি ও অফিসে কয়েকবার গেলেও পাওয়া যায়নি। খোঁজ-খবর নিয়ে জেনেছি উনি ঢাকায় থাকেন।

তবে খুবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শেখ শারাফাত আলী বলেন, আফরিন জামান লিনা সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় আছেন। উনার বিষয়ে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। তবে লিনা অফিস করেন।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech