বোরো রোপন কাজে মাঠে চাষীরা

  

পিএনএস, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : চলতি বোরো মৌসুমে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা এলাকায় বোরো রোপন কাজে কোমর বেধে মাঠে নেমেছে চাষীরা।সময় মত রোপন না করতে পারলে ভাল ফলন পাওয়া যাবে না এমন লক্ষ্যকে সামনে রেখে তারা কঠিন শীত ও কুয়াশাকে উপেক্ষা করে রোপন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এ দিকে কৃষি বিভাগ চলতি বোরো মৌসুমে শতভাগ ধানের জমিতে লাইনে রোপন বাস্তবায়নের বিশেষ কর্মসূচী গ্রহন করেছে। ফসলহানী ও রোগ পোকার আক্রমনের হাত থেকে রক্ষার লক্ষ্যে ওই কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও আবহাওয়া জনিত কারনে ফসলের রোগ ও পোকার আক্রমন অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে কৃষকরা বালাইনাশক ব্যবহার করেও ফলাফল লাভে ব্যর্থ হচ্ছে। ফসলহানী ও রোগ পোকার আক্রমনের অনেকগুলি কারনের মধ্যে প্রধান কারন হিসাবে লাইনে ফসল না লাগোনো একটি বড় সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। লাইনে ধান রোপনে যেমন পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় তেমনি অনেকাংশে ফলনও বৃদ্ধি পায়। তাই এবারে বোরো ফসল লাইনে রোপন করার উপর জোর দিয়েছে কৃষি বিভাগ। বিগত বছরে শতকরা ৬০ ভাগ জমিতে লাইনে বোরো রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও অর্জিত মাত্রায় তেমন সাফল্য অর্জন করা যায় নাই। তাই লাইনে রোপন করার কাজকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রুপ দেয়ার লক্ষ্যে এ বছর শতভাগ জমিতে লাইনে রোপনের আওতায় আনার জন্য স্থানীয় ভাবে বিশেষ কর্মসূচী ঘোষনা করা হয়েছে।

এ কর্মসূচীকে সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন,জনপ্রতিনিধি,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,মসজিদের ইমামগণ,স্থানীয় ক্লাব,সেচ কমিটি ও মিডিয়া সহ সংশ্লিষ্ট সকলকের প্রতি সহযোগিতার জন্য উপজেলা কৃষি অফিসারকে চিঠির মাধ্যমে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করেছেন দিনাজপুর জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক । তবে বাস্তবে এ কর্মসূচী কতটা সফল হবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে জানা যায় চলতি মৌসুমে উপজেলা এলাকায় ১৭ হাজার ৪৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে।যা গত মৌসুমের চেয়ে ৭৭৫ হেক্টর জমি কম।নির্ধারিত জমির মধ্যে হাইব্রীড ৩ হাজার ১২৫ হেক্টর ও উফশী ১৪ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমি রয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে হাইব্রীড হেক্টর প্রতি ৪.৭৩ মেঃ টন চাল এবং উফশী ৪.১২ মেঃ টন চাল।

পিএনএস/মো: শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন