লাভের আশায় পেঁয়াজ আবাদে ঝুঁকছে রংপুরের চাষীরা

  

পিএনএস ডেস্ক: আচমকা ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় সংকটের কবলে পড়ে বাংলাদেশ। এতে পেঁয়াজের দাম দিগুণ বেড়ে ক্রেতাদের নাগালের বাহিরে চলে যায়। সেকারেণই অধিক লাভের আশায় পেঁয়াজ আবাদে ঝুঁকছেন রংপুরের চাষীরা। তারা ইতোমধ্যে জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। কেউ কেউ সাথি ফসল হিসেবে পেঁয়াজ আবাদ করছেন। তবে ফসল ঘরে তোলার সময় পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ ও পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন চাষীরা।

এদিকে আচমকা পেঁয়াজ সংকটের কারণে পেঁয়াজ দেশেই উৎপাদনের সিদ্ধান্তে নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরকে পেঁয়াজের আবাদ বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছিল ছয় হাজার ১৪২ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ছয় হাজার ৫৫০ হেক্টর, যা থেকে উৎপাদন হবে ৬৫ হাজার ১৮৫ টন পেঁয়াজ। এরই মধ্যে কন্দ ও চারা করে পেঁয়াজ আবাদ শুরু করেছেন চাষীরা। এবার চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় এক হাজার ৩৫ হেক্টর কন্দ ও ২৫ হেক্টর চারা, গাইবান্ধা জেলায় ২৩৫ হেক্টর কন্দ, কুড়িগ্রাম জেলায় ৫৬৪ হেক্টর কন্দ, লালমনিরহাট জেলায় ৭৯ হেক্টর কন্দ ও ২৫১ হেক্টর চারা, নীলফামারীতে ২২৫ হেক্টর কন্দ ও ৭ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চারা লাগানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুরের মিঠাপুকুর, গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পেঁয়াজ আবাদের জন্য ছোট ছোট প্লট করে চারা উৎপাদন করেছেন চাষীরা। কিছু নার্সারিতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয়েছে পেঁয়াজের চারা। কন্দ লাগিয়ে আগাম যেসব পেঁয়াজ আবাদ করা হয়েছিল, সেগুলো উচ্চমূল্যে বিক্রি করে দিয়েছেন চাষীরা। এছাড়া আলুর সঙ্গে কেউ কেউ সাথি ফসল হিসেবে পেঁয়াজ-রসুনেরও চাষ করেছেন।

মিঠাপুকুরের রানীপুকুর গ্রামের চাষী সাহেবুল মজনু বলেন, ‘১৫ শতক জমিতে কন্দ পেঁয়াজ লাগিয়েছিলাম। প্রতি ধারা (৫ কেজি) পেঁয়াজ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করেছি।' একই উপজেলার জায়গীর কাফ্রিখালের চাষী ফুল মিয়া বলেন, পেঁয়াজ আবাদ করে এবার লাভের মুখ দেখবো।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সরকারের উচ্চ মহলের নির্দেশে রংপুরের পাঁচ জেলায় পেঁয়াজ আবাদে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। প্রণোদনার মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলের ৬৬০ চাষীদের প্রতি জনকে এক বিঘা করে পেঁয়াজ আবাদের জন্য সার ও বীজ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাজস্ব অর্থায়নে ৩৩০ চাষিকে এক বিঘা করে বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন