গোদাগাড়ীতে আউশ ধান চাষে ব্যস্ত চাষীরা

  

পিএনএস, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি : বোরো ধানের দাম না পেলেও চাষীরা পেটের দায়ে মাঠে আউশ ধান চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বোরো ধান ঘরে তোলা শেষ করে বৃষ্টির প্রহর গুনছিল গোদাগাড়ী উপজেলার সেচ প্রকল্পের আউশ চাষীরা। বহু প্রতীক্ষার পর গত কয়েকদিনে সামান্য কিছু বৃষ্টি হলে জমিতে পানি জমলে পুরো উপজেলাতেই কৃষকেরা আউশ ধান রোপণ করতে শুরু করেছে।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মতে, বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। কাঙ্খিত সময়েই আশানুরূপ বৃষ্টিপাত স্থায়ী হলে এ বছর টিয়া আউশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানাই, এ বছর উপজেলায় ১২ হাজার ৫ শ’ হেক্টর জমিতে আউশ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ইতোমধ্যে সরকারি আউশ প্রণোদনা দেয়া শেষ হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, উপজেলায় ২ হাজার ৪ শ ৬০ জন কৃষকের মাঝে আউশের প্রণোদনা দেয়া হয়। এদের মধ্যে উফশী চাষী ২ হাজার ৪ শ’৬০ জন । লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককের মধ্যে উফশী চাষীদেও ৫ কেজি বীজ, ১৫ কেজি ডিএপি , ১০ কেজী পটাশ সার প্রদান করা হয়েছে।

কৃষক শফিউল জানায়, সরকারী ভাবে প্রনোদনা দেওয়া হলে আমি কোন প্রনোদনা পাইনি। যারা প্রকৃত কৃষক তারা প্রনোদনা পাইনা। প্রভাবশালী দলের লোক হলে তারাই প্রনোদনা পাই।

এদিকে, কৃষকরা সরকারিভাবে বিনা টাকায় সার ও বীজ পেলেও অনেক কৃষক সরকারী বীজ বপন করেনি বীজ তলায়। সরকারী বীজ অন্যত্রে বিক্রি করে দিয়েছে বলে অনেক কৃষকের অভিযোগ। মূলত আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আউশ রোপণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ার এ অঞ্চলের কৃষক দেরিতে আউশ রোপণ শুরু করেছে।

কৃষক ইসমাইল বলে, বোরো ধান চাষ করে ধান বিক্রি করে খরচের টাকা উঠেনি। ধান চাষ করে পথে বসতে হয়েছে। গতবার যে পরিমান আউশ ধান চাষ করে ছিলাম তার অর্ধেকেরও কম চাষ করেছি এবার। শুধু নিজের পরিবারের খাওয়ার জন্য আউশ ধান চাষ করা।

তবে কৃষকরা বলছে, এবার খরচের তুলনায় বোরো ধানের দাম বাজারে ভালো না পেলেও পেটের দায়ে ও বেঁচে থাকার তাগিদে তারা আউশ ধান রোপণ করছে। যথাসময়ে প্রবল বর্ষন না হলেও সামান্য বৃষ্টি হওয়ায় আউশ ধান রোপণ শুরু করেছে কৃষাণ-কৃষাণীরা।

উপজেলার কাদিপুর পুর গ্রামের কৃষক রেজাউল জানান, এ বছর তেমন বৃষ্টি না হওয়ায় আউশ রোপণে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে চাষীদের। বৃষ্টি হলেই আউশের চাষাবাদ ভালো হতে পারে। তবে ধানের দাম না পেলে আগের মতই দুঃখ দুর্দশা রয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, বৃষ্টি হওয়ায় কৃষক আউশ ধান রোপণ শুরু করেছে। তবে বৃষ্টি হলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেত পারে। এরপরও আমরা আশাবাদী।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech