ফল-ফসলের সুরক্ষায় এলাকাভিক্তিক হিমাগার স্থাপন সময়ের দাবি

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : সবজির দামে ধস নেমেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম অনেক কম। কম দামে শাকসবজি কিনতে পেরে ক্রেতারা বেজায় খুশি। কিন্তু যে কৃষক রাত-দিন বিরামহীন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করে, ন্যায্য মূল্য না পেয়ে তারা যারপরনাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে জন্য যে এলাকায় দ্রুত পচনশীল যে ফল-ফসল বেশি উৎপাদন, সে এলাকায় ওই ধরনের হিমাগার স্থাপন জরুরি।

কদিন যাবৎ মূলা ৮ টাকা কেজি, ১০ টাকায় একটি বাঁধাকপি, ১৫ টাকায় ফুলকপি, কাঁচা মরিচ ২০ টাকা কেজি, ১০ টাকা কেজি সিম, গোলআলু ও টমেটো ভ্যানগাড়িতে করে বিক্রি হতে দেখা যায় রাজধানীর অলিগলিতে। লম্বা বেগুনের কেজি মানভেদে ৮ থেকে ১০ টাকার মধ্যে। যে বেগুন রমজানে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি কিনতে হয়। বর্তমানে বাজারে আসা বেগুনগুলোর সাইজ বেশ নজরকাড়া।

ঢাকার বাজারের সব ধরনের শাকসবজি ও তরুতরকারি রাইরে থেকে আসে। যেখান থেকে আসে সেখানে ঢাকার চেয়ে দাম অনেক কম, সেটাই স্বাভাবিক। তারপর আছে যানবাহন খরচ। এতকিছুর পর যখন কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যগুলোর দাম রাজধানীতে এত কম, তখন কৃষকের উৎপাদন খরচ উঠেছে কিনা, সে বিষয়টি সহজেই সামনে চলে আসে।

ঢাকায় যেসব শাকসবজি পাওয়া যায়, সেগুলো একদিনের হলেও বাসি। সেগুলো আমরা চড়া দামেই কিনি থাকি। কিন্তু এ কয়দিন দাম যখন কম, তখন বার বারই সামনে চলে আসছে একজন কৃষকের হাড়ভাঙা কষ্ট আর বিনিযোগ করা খরচের দিকটি। কৃষক যদি লাভবান না হন, তাহলে এসব তরকারি ও সবজি উৎপাদনে উৎসাহ হারাবেন, এটাই স্বাভাবিক।

কদিন আগে দুটি টিভি চ্যানেলের খবরে দেখেছি, উৎপাদন খরচ না উঠায় রংপুর ও পার্বত্য অঞ্চলের অনেক কৃষক তামাক চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। কারণ, এটায় নাকি লোকসানের ঝুঁকি কম। বরং আগেই নাকি টাকা পাওয়া যায়। ফলে অনেক কৃষক এবার তামাক চাষে আত্মনিয়োগ করেছেন। তামাকের উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় ধূমপান নিবারণে কাজ করা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।

কৃষকের উৎপাদিত ফল-ফসলহানি ঘটলে অথবা ন্যায্য মূল্য না পেলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।এমন ক্ষতি যেন আর না হয়, সে জন্য গোলআলুর মতো মৌসুমী ফল-ফসল প্রক্রিয়াজাত করার জন্য যে এলাকায় যে পচনশীল ফল-ফসল বেশি উৎপাদন হয়, সে এলাকায় হিমাগার স্থাপন করা সময়ের দাবি। কৃষককের শ্রম, কষ্ট ও বিনিয়োগকে সুরক্ষিত করতে এ যৌক্তিক দাবি পূরণ জরুরি।

কৃষকরা এমনই নির্মোহ মানুষ, যাদের তেমন বাড়তি চাহিদা নেই। ফল-ফসল ভালো হলে যাদের মুখে হাসি ধরে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এগুলো নষ্ট হলে কষ্টের সীমা থাকে না। আবার উৎপাদনের পর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতিতেও তাদের মাথায় হাত পড়ে। কৃষক যেন কোনোভাবেই হতাশ না হন, সেদিকটি মাথায় রেখে তাদের জন্য এলাকাভিত্তিক প্রয়োজনীয় সংখ্যক হিমাগার স্থাপন করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে উদ্যোগ দেখতে চায় কৃষি ও কৃষকবান্ধব জনগোষ্ঠী।

লেখক : বার্তা সম্পাদক- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech