শেরপুরে বারী-১৪ জাতের সরিষার বাম্পার ফলন

  

পিএনএস, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : চলতি রবি মৌসুমে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। বিশেষ করে বারী-১৪ জাতের সরিষার ভালো ফলন পেয়েছেন চাষীরা।

প্রতিবিঘায় ফলন নামছে ৭-৮মণ হারে। ফলে এই জাতের সরিষা চাষে কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বাড়ছে। এ সরিষার চাষ বাড়লে দেশে সরিষা আমদানি নির্ভরতা কমবে। গতকাল দুপুরে উদ্যান তাত্ত্বিক ফসলের গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় বারি সরিষা-১৪ ফসলের মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া আমন্ত্রিত অতিথি ও চাষিরা এসব তথ্য জানান। উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের সুবলী এলাকায় এই মাঠ দিবস অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সমাজসেবক ডা. মো. মাজহারুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা ড. জুলফিকার আলী হায়দার ও ড. শহিদুল আলম। এতে প্রায় দেড় শতাধিক চাষী অংশ নেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার দিগন্ত বিস্তৃত মাঠজুড়ে সরিষার চাষ করা হয়েছে। চোখ জুড়ানো হলুদ সরিষা খেতের ফুলগুলো এখন পরিপক্ক দানায় পরিণত হয়েছে। তাই মাঠ থেকে সরিষা তোলার ধুম পড়েছে। একইসঙ্গে এই ফসলটি মাড়াইয়ে এখন চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। ভালো দামের আশাও করছেন তারা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমান বাজারে প্রতিমণ (৪০কেজি) সরিষা রকমভেদে ১৪০০ থেকে ১৯০০টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফলে বাজারমূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা বেশ লাভবানও হচ্ছেন।

উপজেরার শালফা এলাকার হায়দার আলী জানান, তিনি এবার পাঁচ বিঘা জমিতে বারী-১৪জাতের সরিষা চাষ করেন। ইতিমধ্যে মাড়াইয়ের কাজও প্রায় শেষ। প্রতিবিঘায় গড়ে ৭মণ হারে ফলন পেয়েছেন। একই ইউনিয়নের নলবাড়িয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীন জানান, আমন ধান ঘরে ওঠার পর বোরো ধান লাগানোর আগ পর্যন্ত জমি ফাঁকা থাকে। তাই বাড়তি আয়ের আশায় কৃষকরা রবি মৌসুমের রকমারি ফসল চাষ করে থাকেন। এরমধ্যে অন্যতম ফসল হলো সরিষা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তার এলাকায় প্রায় কৃষকই এবার কমবেশি সরিষা চাষ করেন। তিনিও এবার পাঁচ বিঘা জমিতে এই জাতের সরিষা চাষ করেন। এই কৃষক আরও জানান, প্রতিবিঘা জমিতে সার, বীজ, চাষ, পানি সেচ, কীটনাশক, শ্রমিক খরচসহ সবমিলে ৫হাজার থেকে ৬হাজার পর্যন্ত খরচ হয়েছে। তবে ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী সরিষা বিক্রি করে বিঘাপ্রতি ৮হাজার টাকা করে লাভ হয়েছে বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ১হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এরমধ্যে সিংহভাগ জমিতেই উচ্চ ফলনশীল বারী-১৪ ও বারী-১৫ জাতের সরিষা চাষ করা হয়। এবার এই ফসলটির জন্য আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে সরিষার বাজারমূল্য ভালো থাকায় এই ফসল চাষে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল




 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech