ময়মনসিংহে বিস্তীর্ণ এলাকার মাঠজুড়ে কৃষকের বোরো আবাদের ধুম চলছে

  

পিএনএস, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের কৃষকরা প্রচন্ড শীত ও হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বিস্তীর্ণ এলাকার মাঠজুড়ে বোরো আবাদের ধুম চলছে। ভোরের আলো ফোঁটার আগেই কোমর বেঁধে ফসলের মাঠে নেমে পড়ছেন কৃষকরা। কুয়াশায় ঢাকা শীতের সকালে বীজতলায় ধানের চারা পরিচর্যার পাশাপাশি জমি চাষের কাজ চলছে পুরোদমে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে ‘ নদীর পাড়ে, খালের ধারে, রাস্তার পাশের জমিতে, বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে ধানের কচি চারার সবুজ গালিচা। কোথাও গভীর নলকূপ থেকে চলছে জলসেচ,ট্রাক্টর,পাওয়ার টিলার দিয়ে কোথাও চলছে জমি চাষের কাজ। আবার বোরো ধান রোপণের জন্য বীজতলা থেকে তোলা হচ্ছে ধানের চারা।

জেলার সদর,মুক্তাগাছা,ফুলবাড়িয়া,ত্রিশাল,ভালুকা,গফরগাঁও,নান্দাইল,ঈশ^রগঞ্জ,গৌরীপুর,ফুলপুর,তারাকান্দা,হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া
উপজেলাসহ পাগলা থানার বিস্তীর্ণ এলাকার মাঠজুড়ে বোরো আবাদের জন্য কৃষকরা জমি তৈরি করে ধানের চারা রোপণ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে অনেকের জমির বোরো ধানের সবুজ চারা লক লক করে বেড়ে উঠছে। প্রথম দিকে যারা জমিতে আবাদ শুরু করেছেন, তাদের চারার গোছা অনেক মোটা হওয়ায় কৃষকরা অধিক ফলন পাবার আশা করছেন।

ঈশ^রগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা গ্রামের কৃষক জলিল মিয়া জানান, এবার তিনি ৫ একর জমিতে বোরো আবাদ করবেন। সেজন্য ৪ কাঠা জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। ইতোমধ্যে এক একর জমি চাষ সম্পন্ন হয়েছে। দু-একদিনের ভেতরেই চারা রোপণ শুরু করবেন।

নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের ঘোষপালা গ্রামের কৃষক সাইদুর জানান, এবার তিনি ৬ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে আশাতীত ধান পাবেন।

আচারগাঁও পূর্বশিবনগর গ্রামের কৃষক নজরুল বলেন,ধানের চারা দেখে মনে হয় ফলন অনেক ভাল হবে। সময় মত সার কীটনাশক দিতে পারলে ধানের জমি ভাল হবে আশা করি। এখনই ক্ষেতের পাশে দাঁড়ালে বুক জুড়িয়ে যায়, মনে হয় ধানের জমি হাসছে।

নান্দাইল উপজেলা কৃষি সহকারী সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

গফরগাঁও উপজেলার সালটিয়া,ইউনিয়নের বাগুয়া গ্রামের শিমুল,মজনু,আবুল হোসেন সরকার,চরআলগী ইউনিয়নের মিরা পাড়ার উজ্জল মীর,খোকন সরকারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত কৃষকরা বাম্পার ফলনের স্বপ্নের আশায় জানিয়েছেন,উপজেলা কৃষি অফিসারসহ কৃষি বিভাগের লোকজন আমাদের বোরো চাষে উৎসাহিত করেছেন।আমরা বাম্পার ফলনের আশা করছি।

গফরগাঁও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানায়,প্রতিটি ইউনিয়নে নিয়োগকৃত বিসিআইসি’র সার ডিলাররা যথা সময়ে কৃষকদের মাঝে সার সরবরাহের কথা দিয়েছেন। সারের মজুদ রয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সর্বত্রই বাম্পার ফলন হবে,উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হবে বলে আশা রয়েছে।

জেলার তেরটি উপজেলায় এখন চলছে একই চিত্র। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সময় বাঁচাতে ক্ষেতের আইলে বসেই দুপুরের খাবার সেরে নিচ্ছেন কৃষকরা। প্রচন্ড শীত ও হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে বীজতলা থেকে জালা(চারা)তুলে রোপন করছেন জমিতে। গেল আমন মৌসুমে ধানের ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় বোরো মৌসুমে ধান চাষের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের। এই অঞ্চলে আবহাওয়া ও রোগ বালাই কম হওয়ায় প্রতিবছর ধানের উৎপাদন ভালো হচ্ছে।

গত বছর ময়মনসিংহে ২ লক্ষ ৫৯ হাজার ৬’শ ৭৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিলো । এবার ১৭ হেক্টর কম জমিতে অর্থাৎ ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হচ্ছে গফরগাঁও উপজেলায় ২৩ হাজার ১৪৫ হেক্টর জমিতে।

বর্তমানে জেলার দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ শ্যামলিমায় ছড়িয়ে আছে জেলার প্রতিটি উপজেলার ক্ষেতের মাঠ।’ চলতি বছরে বোরো আবাদের পরিমাণ গতবারের চেয়ে খানিকটা কমলেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে বেশ আশাবাদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

ময়মনসিংহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায় , আমন মৌসুমে ধানের ভালো ফলনের পাশাপাশি আশাতীত দাম পেয়েছে কৃষক। ফলে এবার বোরো মৌসুমের শুরুতেই এই স্বপ্নের ফসল আবাদে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমে কৃষকরা রোপণ কাজ শুরু করেছেন।

একই সূত্র জানিয়েছে, গত বছর ময়মনসিংহ জেলায় বোরো আবাদ হয়েছিল ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৭৮ হেক্টর জমিতে। এবার ১৭ হেক্টর কম জমিতে অর্থাৎ ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হচ্ছে গফরগাঁও উপজেলায় ২৩ হাজার ১৪৫ হেক্টর জমিতে।

এছাড়া সদর উপজেলায় ১৯ হাজার ৫৮০, হালুয়াঘাটে ২০ হাজার ১৮৫, ধোবাউড়ায় ১২ হাজার ৫২৮, ফুলপুর ২১ হাজার ৩২৫, তারাকান্দায় ২১ হাজার ৮৭১, গৌরীপুর ২০ হাজার ৬৯০, মুক্তাগাছা ১৯ হাজার ৪৬২, ফুলবাড়িয়া ২০ হাজার ৮৬০, ত্রিশাল ১৯ হাজার ৭৩৫, ঈশ্বরগঞ্জ ২০ হাজার ২৫০, নান্দাইল ২১ হাজার ৭৪৫ ও ভালুকা উপজেলায় ১৮ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমি।

ময়মনসিংহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মাজেদ জানান, জমি প্রস্তুতির পাশাপাশি রোপণের কাজ পুরোদমে চলছে। স্থানীয় কৃষি অফিসের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়াসহ পুরো বিষয়টি মনিটরিং করছেন। জেলার কৃষকরা কোনো জমিই পতিত রাখেননি। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আরও জানান তিনি।


পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল




 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech