শেরপুরে বোরোর বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

  

পিএনএস, শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা : বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বোরোর বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। বৈরী আবহাওয়া, শ্রমিক সংকট ও ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কেবলই হা-হুতাশ করছেন কৃষকরা। কেননা এনজিও আর মহাজনদের ঋণের সুদসহ দায়দেনা পরিশোধ করতেই হবে। এছাড়া বিভিন্ন দোকানের ছোটখাটো বকেয়া ও সাংসারিক প্রয়োজন মেটাতেও টাকার বিকল্প নেই। তাই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে লোকসান দিয়েই কৃষক কাঁচা ভেজা ধান বিক্রি করছেন।

আর এই সুযোগ নিয়েছেন একশ্রেণীর মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা। তারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে অনেকটা পানির দরেই এসব ধান কিনছেন। কৃষকও উপায় অন্ত না পেয়ে নানামুখি সমস্যার বেড়াজালে ঘুরপাক খেয়ে কমদরে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ২০হাজার ৭০০হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়। ইতিমধ্যে পুরোদমে ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ চলছে। বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবার বোরো ধানের ফলন ভালো হচ্ছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষক নানামুখি সংকটে রয়েছেন বলে সূত্রটি জানায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বরেন্দ্রখ্যাত পাঁচ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চলতি বোরো মৌসুমে লাগানো ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া ও শ্রমিক সংকটে উঠতি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে কৃষক বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। উপজেলার মামুরশাহী গ্রামের কৃষক হাজি সোহেল রানা জানান, তিনি চলতি মৌসুমে ৬০বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধান লাগিয়েছেন। এরমধ্যে বিআর-২৮, শুভললতা, কাজললতা, মিনিকেট জাতের ধান রয়েছে। ইতোমধ্যেই এসব ধান পাকায় তা কাটা শুরু করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ৩০মণ হারে ফলন নামছে। একইভাবে সাধুবাড়ী গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম ও গোলাম রব্বানী জানান, বৈশাখের শুরু থেকেই আবহাওয়া ভাল যাচ্ছেনা। প্রায় দিনই কালবৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। তাই এই ঝড়-বৃষ্টির ভয়ে তাদের ক্ষেতের আধাপাকা ধানও কাটা শুরু করেছেন। তাদের মতো অনেকেই পাকা ও আধাপাকা ধান কাটছেন। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে বিপাকে পড়েছেন তারা।

ঘোলাগাড়ির মতিউর রহমান, পালাশন গ্রামের আব্দুস সাত্তারসহ একাধিক কৃষক জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ে চরম সমস্যায় রয়েছেন। ক্ষেতের মধ্যে পানি জমে থাকায় শ্রমিকরা ধান কাটতে চায় না। দ্বিগুন মজুরি দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। এসব কৃষকরা জানান, বিগত বছরগুলোতে প্রতি বিঘা জমির ধান কাটতে ১৮০০ থেকে ২৫০০টাকা শ্রমিক ব্যয় হতো। কিন্তু এবার বিঘাপ্রতি ২৫০০-৫০০০ টাকা পর্যন্ত শ্রমিককে মজুরি দিতে হচ্ছে। অথচ সে অনুযায়ী ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বলে তারা দাবি করেন। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় হাট-বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিমণ কাঁচা মিনিকেট ধান ৬০০ থেকে ৭৫০টাকা, কাজললতা ৫৫০-৭০০টাকা, পারিজাত ৬০০-৬৫০টাকা ও ৬৮০ থেকে ৭২০টাকা দরে বিআর-২৮জাতের ধান বিক্রি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১৫হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আর এক সপ্তাহের মধ্যে মোটামুটি ধান কাটা শেষ হবে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান-কাটা মাড়াইয়ে একটু সমস্যায় রয়েছেন। এছাড়া কাঁচা ধানের দাম তুলনামূলক কম হলেও অনেক কৃষকই নেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধান মাড়াই করছেন। এতে করে বৃষ্টির প্রভাব থেকে ফসল রক্ষা হচ্ছে। ফলে তারা ধানের দামও ভালো পাবেন বলে মনে করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech