রাজস্থানী-হরিয়ানা ছাগলের খামারে প্রতিমাসে বিনিয়োগকারীর আয় হতে পারে লাখ টাকা

  

পিএনএস, ঝিকরগাছা : যশোরের ঝিকরগাছায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে উন্নতজাতের ছাগলের খামার। খামারটিতে ভারতের হরিয়ানা ও পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে আনা হয়েছে উন্নতজাতের এই ছাগল। খামার মালিক মনিরুল আলম মিশরের দাবী, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যার মাধ্যমে একটি ছাগলের খামার থেকে মাসিক আয় হতে পারে লাখ টাকা। তার মতে, ৩০ লাখ টাকা লগ্নি করলে একটি ছাগলের খামার থেকে আয় হতে পারে প্রতিমাসে ১ লাখ টাকা। তার খামারে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ছাগলের সংখ্যা রয়েছে ৫০/৫২টি। তার খামারে মাদি ছাগল বাঁচ্চা দিয়েছে ৯ টি। যার প্রতিটির দাম ২০ হাজার টাকা হিসেবে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তিনমাস বয়সী প্রতিটি বাঁচ্চার দাম ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা।

খামারটি গড়ে তুলতে অবকাঠামোসহ ছাগলক্রয় বাবত মোট অর্থলগ্নির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায়ই ৮ লাখ টাকা। খামারটি বর্তমানে লাভজন্ক পর্যায়ে এসেছে বলে দাবী করেন লগ্নিকারি।

তার খামারটিতে রাজস্থানি, তোতাপারি, শিরহিমুন্ডী ও ভারতীয় হরিয়ানা রাজ্যের মেওতি জাতের ছাগল ছাড়াও বাংলাদেশি ‘ব্লাকবেঙ্গল’ ছাগল রয়েছে। তার খামারে সংগ্রহকৃত উন্নতজাতের এসব ছাগলের তিন মাসের প্রতিটি বাঁচ্চার দাম ভারতীয় মুদ্রায় ২৮ হাজার রুপি ও দুটি বয়স্ক মাদি ছাগল কেনা হয়েছে ৬০ হাজার রুপিতে।

খামারি মনিরুল আলম মিশর জানিয়েছেন, তিনি খুলনার দৌলতপুর মহাসিনমোড় এলাকার আরিফ হোসেন এর গড়ে তোলা বিদেশি ছাগলের ফার্ম দেখে নিজে খামার গড়তে উদ্বুর্দ্ধ হন। তিনি জানান, আরিফ হোসেন এর খামারে আফ্রিকান বোয়ারগোট ছাগল রয়েছে। এ জাতের ছাগল আড়াই থেকে তিন মন পর্যন্ত মাংস পাওয়া যায়। যদিও এসব ছাগল সৌখিন ছাগল পালনকারিরা ‘শখের বসে’ ছাগল পালনে আগ্রহি হয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে মাংসের বাজারদরের সাথে এর কোনো তুলনা নেই। আফ্রিকান এজাতের ছাগল প্রতি জোঁড়ার দাম ১৪ লাখ টাকা। অবিশ্বাস্য হলেও এটাই আসল বাস্তবতা দাবি করেন মনিরুল আলম। তিনি বলেন, তার ফার্মে ‘মাল্লু’ নামের যে পাঠা ছাগলটি রয়েছে তার দাম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাম উঠলেও তিনি তা হাতছাড়া করেননি।

ছাগল পালনে তেমন কোনো বাড়তি খরচ লাগেনা। এখামারির দাবি তিনি তৃণভোজী ছাগলের প্রিয় খাবার হিসেবে ৫ কাঠা জমিতে উন্নতজাতের বর্ধনশীল ঘাসচাষ করেছেন। কেনাবাবত বাড়তি খাবার হিসেবে অল্প পরিমাণ গমের ভূট্টা, গম, ছুলা, চাউলের গুড়া ও খড় মিশিয়ে খাবার দিলেই চলে। রোগ প্রতিষেধক হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ে (বছরে তিনবার) পিপিআর ভ্যাকসিন, এডি ভিটামিন ও কৃমিনাশক দিতে হয়। আব্দুস সালাম নামে একজন অভিজ্ঞ কেয়ারটেকাকে মাসিক ৫ হাজার টাকার বেতনসহ অন্যান্য সুবিধা প্রদান করা হয় বলে জানান মনিরুল আলম।

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech